ওয়েল্ডিং জোরের বিকৃতি দমন কৌশল ক্লাসটি ওয়েল্ডিং এন্ড ফেব্রিকেশন ১ [Welding and Fabrication 1] কোর্সের ৪র্থ অধ্যায়ের [Chapter 4] ক্লাস। উত্তম ওয়েল্ড তৈরির শর্তাবলি [ Good Welding Conditions ] ক্লাস টি ওয়েল্ডিং এন্ড ফেব্রিকেশন ১ [Welding and Fabrication 1] কোর্সের [Course] ২য় পত্রের [2nd Paper] অংশ, যা ১০ম শ্রেণীতে [Class 10] পড়ানো হয়। ওয়েল্ডিং এন্ড ফেব্রিকেশন ১ [Welding and Fabrication 1] কোর্সের প্রায় সকল ভিডিওই আমাদের চ্যানেলে পেয়ে থাকবেন।
ওয়েল্ডিং জোরের বিকৃতি দমন কৌশল
ওয়েল্ড জোড়ের বিকৃতির কারণসমূহ
বিকৃতি ওয়েল্ড জোড়েনা একটি অন্যতম দোষ। এটি দমন করা ওয়েল্ডারের প্রধান কর্তব্য। এ বিকৃতির কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। সময় ও অর্থের অপচয় হয়। বিকৃতির কারণ, প্রকার ইত্যাদি সঠিক ভাবে জেনে তা দমনের জন্য ওয়েল্ডারকে সঠিক কৌশল প্রয়োগ করতে হবে। বিকৃতির কারণসমূহ হলো ওয়েন্ডিং চলাকালীন সময়ে ধাতুর অসম প্রসারণ ও সংকোচন। প্রসারণ ও সংকোচনজনিত বল নিয়ন্ত্রণ না করলে বিকৃতি ঘটে।
জোড় এর বিকৃতিসমূহকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা যায় –
(ক) আড়াআড়ি বিকৃতি
(খ) লম্বালম্বি বিকৃতি এবং
(গ) কৌণিক বিকৃতি।

ওয়েল্ড জোড়ের বিকৃতির প্রতিক্রিয়া
আড়াআড়ি বিকৃতি
যখন দুইটি প্লেট না আটকিয়ে বাট জোড় দেওয়া হয়। ওয়েন্ড মেটাল সংকোচনের দরুন উক্ত প্লেটম্বর পরস্পরের দিকে টেনে নিকটবর্তী হতে থাকবে। এটি আড়াআড়ি বিকৃতি নামে পরিচিত।
লম্বালম্বি বিকৃতি
না আটকিয়ে একটি সমতল সরু শিট মেটালের উপর ওরেও করলে উক্ত টুকরা উপরের দিকে বেঁকে উঠে। একে লম্বালম্বি বিকৃতি বলে এবং এটি ওয়েন্ড মেটালের দৈর্ঘ্য বরাবর ঠাণ্ডা ও সংকোচিত হওয়ার দরুন হয়ে থাকে।
কৌণিক বিকৃতিঃ দুইটি প্লেট সমকোণে রেখে একদিকে ওয়েল্ড করলে ঠান্ডা হওয়ার পর উক্ত প্লেট সমকোণে থাকবে না। সংকোচন জনিত স্ট্রেস প্লেট এবং ওয়েল্ডকে একে অপরের দিকে টানবে। অনুরূপ ভাবে সিংগেল- ডি বাট জোড় একে অপরের দিকে টেনে অক্ষচ্যুত করবে।
ওয়েল্ড জোড়ের বিকৃতি দমনের উপায়
বিকৃতি দমনের উপায়গুলো নিচে দেওয়া হলো-
- স্ট্রেস বিস্তৃতি করণ
- প্রি-সেটিং
- পিনিং
- স্টেপ ব্যাক মেথড
- ওয়ান্ডারিং/স্কিপ মেথড
- জিগ এবং ফিকচার দ্বারা
বিকৃতি দমনের পদ্ধতিগুলোর বর্ণনা :
স্ট্রেস বিস্তৃতিকরণঃ এটি সংকোচন জনিত বল। অন্যটির বিরুদ্ধে সমন্বয় করাই স্ট্রেস বিস্তৃতিকরণ ওয়েল্ডিং। এর ধারাবাহিকতা সঠিকভাবে বজায় রেখে এটি করা হয়ে থাকে।
যন্ত্রাংশের প্রি-সেটিংঃ এ পদ্ধতিতে ওয়েন্ডিং সংকোচনের জন্য অ্যালাউন্স রাখা হয়। অভিজ্ঞতার আলোকে ধারণা করা সম্ভব জোড় কতখানি সংকোচিত হবে এবং জবকে সেটিং করতে বিপরীত দিকে তাকে হেলাতে হবে।
পিনিংঃ ওয়েল্ডিং ঠাণ্ডা হয়ে সংকোচিত হয়। ঠাণ্ডা হওয়ার সময় যদি হাতুড়ির আঘাত (পিনিং) করা হয় এতে ওয়েল্ড মেটাল এর বিস্তৃতি হবে এবং সংকোচনের বিপক্ষে কাজ করবে।
স্টেপব্যাক মেথডঃ চিত্রে প্রদর্শিত নিয়মে বিকৃতি দমন করা যায়।
ওয়ান্ডারিং/স্কিপমেথডঃ চিত্রে প্রদর্শিত চিত্র অনুযায়ী বিকৃতি দমন করা যায়।
জিগ এবং ফিকচারঃ জিগ এবং ফিকচার ব্যবহার করে বিকৃতি দমন করা যায় ।
