ভার্টিক্যাল মিলিং মেশিন এর সাহায্যে সল্ট কাটিং ক্লাসটি “মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ প্র্যাক্টিস” কোর্সের অংশ। “মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ প্র্যাক্টিস” কোর্সের প্রায় সকল ভিডিওই আমাদের চ্যানেলে পেয়ে থাকবেন।
ভার্টিক্যাল মিলিং মেশিন এর সাহায্যে সল্ট কাটিং
মিলিং প্রক্রিয়ায় কাটিং টুল অনেক গতিতে ঘুরে ওয়ার্কর্পিচ থেকে ধাতব পদার্থ অপসারণ করে। আরবরে (arbor) একইসাথে একাধিক টুল বাঁধা যায়। মিলিং মেশিনে ফ্লাট সারফেস, ভিতর ও বাহিরের থ্রেড ও গিয়ার তৈরি করা যায় । কার্যক্ষমতা বেশি হওয়ায় শেপারের বদলে মিলিং মেশিনে কাজ বেশি করা হয়।
মিলিং মেশিনের ব্যবহার (Use of Milling machine):
এই মেশিন দিয়ে ফ্লাট সারফেস, ভিতর ও বাহিরের থ্রেড ও গিয়ার তৈরি করা যায়। এছাড়াও মিলিং মেশিনের সাহায্যে বিভিন্ন প্রকার তল মেশেনিং, ড্রিলিং, রিমিং, গিয়ার মিলিং, স্পাইরাল মিলিং ইত্যাদি অপারেশন গুলো সহজেই সম্পন্ন হয়ে থাকে।

মিলিং মেশিন চালনা কৌশল (Operational procedure of Milling machine):
চালনা কৌশল জেনে মেশিন চালাতে হবে। নিরাপত্তা সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সমস্ত ঘূর্ণায়মান যন্ত্রাংশ পরিষ্কার করতে হবে এবং লুব্রিক্যান্ট দিতে হবে। মেশিন বন্ধ অবস্থায় এডজাস্টমেন্ট, পরিমাপ এবং পরিষ্কার করতে হবে। কুল্যান্ট সরবরাহ লাইন ঠিক আছে কিনা দেখতে হবে। সার্কিট ব্রেকার অন করতে হবে। মেশিনের পাওয়ার সুইচ অন করে ঘূর্ণায়মান যন্ত্রাংশ বিশেষ করে কাটার বারের ঘুর্ণন পরীক্ষা করতে হবে। কোথাও কোনো বাঁধা থাকলে দূর করতে হবে। জবকে ডিভাইডিং হেডে (dividing head) সেন্টারিং করে শক্ত করে বাঁধতে হবে।
এর পর আরবরে কাঙ্ক্ষিত গিয়ার কাটার সেট করতে হবে। টেবিলকে উপর, নিচ এবং এদিকওদিক করে জবকে কাটার বার বরাবর সেন্টার করতে হবে। মেশিন চালু করে জবের উপর কাটার বারকে হাল্কাভাবে ছুঁতে হবে। এতে জবের উপরিভাগে একটি দাগ পড়বে। এই দাগকে কেন্দ্র করে জবে যে কয়টা দাঁত কাটতে হবে উপরিতলে সেই কয় ভাগে ভাগ করে দাগ কাটতে হবে। কাটার বারের গতি নির্ধারণ করতে হবে। গিয়ারের দাঁত কাটার জন্য কম গতিতে কাটার বার চালাতে হবে। গিয়ার ফিনিসিংয়ের সময় কাটারকে বেশি গতিতে চালাতে হবে।
এলুমিনিয়াম ও পিতলের ন্যায় নরম ধাতুতে গিয়ার কাটার সময় কাটার বারকে বেশি গতিতে চালাতে হবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিমাণমতো ফিড দিতে হবে। হাতেও ফিড দেয়া যাবে। বেশি ফিড দেয়া যাবে না। জবে কুল্যান্ট সরবরাহ করতে হবে। কাটিং ফ্লুইড ঠিকমতো পরিষ্কার করছে কিনা লক্ষ রাখতে হবে। একই ডেথে সবগুলো গিয়ার কাটার পর কাটার গভীরতা বৃদ্ধি করতে হবে। কাটার বারের ব্যাস এবং ধাতব পদার্থের গুণাগুণের উপর ডেথ অফ কাট নির্ভর করে।
একটি গিয়ার তৈরি করতে সাধারণত দুয়ের অধিকবার ডেপ্থ অফ কাট দিতে হবে। গিয়ার কাটা সম্পন্ন হলে দু’পাশে ফাইলিং করে ফিনিসিং করতে হবে। কাজ শেষে মেশিনের সুইচ বন্ধ করতে হবে। আরবর থেকে কাটার খুলে ভালোভাবে পরিষ্কার করে সংরক্ষণ করতে হবে। মেশিন পরিষ্কার করতে হবে।
