হুকের সূত্র ক্লাসটি পলিটেকনিক [ Polytechnic ] এর “মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাটেরিয়াল [Mechanical Engineering Materials] ৬৭০১৩, [67013]” কোর্সের অংশ। প্রখ্যাত বিজ্ঞানী রবার্ট হুক আবিষ্কৃত বিখ্যাত হুকের সূত্র আলোচনা করা হয়েছে এই ক্লাসে৷ এই ক্লাসটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং এই ক্লাসটি করার আগে অবশ্যই পীড়ন ও বিকৃতির ক্লাস করে আসা উচিত।মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাটেরিয়াল [Mechanical Engineering Materials] কোর্সের প্রায় সকল ভিডিওই আমাদের চ্যানেলে পাবেন।
হুকের সূত্র
হুকের সূত্র পদার্থবিজ্ঞানের একটি সূত্র যা বলে যে, স্প্রিংকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে (x) প্রসারিত কিংবা সংকুচিত করতে যে বল (F) প্রয়োগ করতে হয় তা ঐ দূরত্বের সমানুপাতিক – অর্থাৎ Fs = -kx যেখানে k হলো সমানুপাতিক ধ্রুবক এবং x এর মান স্প্রিংটির স্থিতিস্থাপক সীমার চেয়ে কম। ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী রবার্ট হুকের নামানুসারে এই সূত্রটির নামকরণ করা হয় হুকের সূত্র।

সূত্রের বিবৃতি
হুকের সূত্রের বিবৃতি হলো, “As the extension, so is the force“, যার অর্থ বাংলায়, “স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে বস্তুর পীড়ন এর বিকৃতির সমানুপাতিক।”
ইতিহাস
১৬৭৬ সালে রবার্ট হুক বস্তুর পীড়ন আর বিকৃতি এর মধ্যে একটি সম্পর্ক খুঁজে পান। তিনি তার সেই সূত্রটি আমেরিকার একটি খবরের কাগজে ল্যাটিন ভাষায় একটি ধাঁধার মাধ্যমে প্রকাশ করেন, ধাঁধাটি ছিল এইরকম, “cciiinosststuv”, তিনি বলেন এই শব্দটিকে ভালোভাবে সাজালে একটি অর্থপূর্ণ বাক্য পাওয়া যায়। অনেকে এই ধাঁধা সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
অবশেষে ১৬৯৪ সালে, প্রায় ১৮ বছর পর তিনি নিজেই ধাঁধা পুনরুদ্ধার করে দিলেন। সমাধানটি ছিলো এরকম, “ut tensio,sic vis”। ইংরেজিতে যার অর্থ, “as the extension, so is the force”। বাংলায় বস্তুর সম্প্রসারণ প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক। এখান থেকেই হুকের সূতের বিবৃতি নেওয়া হয়েছে অর্থাৎ “স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে বস্তুর পীড়ন বিকৃতির সমানুপাতিক। ”
ব্যাখ্যা :
কোনো বস্তুতে বল প্রয়োগ করলে তার বিকৃতি ঘটে। বল স্থিতিস্থাপক সীমা অতিক্রম না করলে হুকের সূত্রানুসারে কোনো বস্তুর বিকৃতি যত বেশি হবে, পীড়নও তত বেশি হবে। অর্থাৎ বিকৃতি প্রতিরোধকারী বলের মানও তত বেশি হবে। যেহেতু পীড়ন একক ক্ষেত্রফলে লম্বভাবে প্রযুক্ত বল দ্বারা পরিমাপ করা হয়। সুতরাং বলা যায়, একক ক্ষেত্রফলের উপর প্রযুক্ত বল যত বেশি হবে বস্তুটি তত বেশি বিকৃত হবে অর্থাৎ তার দৈর্ঘ্য, আয়তন বা আকার তত বেশি পরিবর্তিত হবে। একক ক্ষেত্রফলে প্রযুক্ত বল দ্বিগুণ করলে বিকৃতি দ্বিগুণ হবে, একক ক্ষেত্রফলে প্রযুক্ত বল তিনগুণ করলে বিকৃতিও তিনগুণ হবে।
